তারিখ : ২৫ মে ২০২০, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ঢাকাসহ ৯ জেলায় সংক্রমণ,আরও ২ জনের মৃত্যু

ঢাকাসহ ৯ জেলায় সংক্রমণ,আরও ২ জনের মৃত্যু
[ভালুকা ডট কম : ০৪ এপ্রিল]
আজ সকাল আটটা পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আরও দুইজনের মৃত্যু এবং নতুন করে নয় জনের সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হলো। আর আক্রান্ত রোগীর সংখ্য বেড়ে দাঁড়ালো ৭০ জনে। দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে একদিনে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা আজকেই সর্বোচ্চসংখ্যক ন’জন চিহ্নিত করা হয়েছে। আইইডিসিআর পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা আজ (শনিবার) অনলাইন ব্রিফিং-এ এ তথ্য জানান। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ডাক্তার মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যে নয়জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে পাঁচজন এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন। অর্থাৎ, করোনায় আক্রান্ত পরিবারের সদস্য তাঁরা। বাকি দুজন বিদেশ থেকে এসেছিলেন। দুজনের শনাক্ত হওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।নতুন করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী দুই শিশু রয়েছে।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকক্ষ জনিয়েছে,দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এ পর্যন্ত ৯টি জেলায় ছড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকায়।এছাড়া রাজধানীর যে ১৮টি এলাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- মণিপুর‌ (পাঁচজন), বাসাবো (চারজন), পুরান ঢাকার বাংলাবাজার (তিনজন), সেনপাড়া, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, হাজারীবাগ, মগবাজার, উত্তরা ও উত্তরখান (দুজন), মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বর, যাত্রাবাড়ী, আজিমপুর, কলাবাগান, রামপুরা, মহাখালী, বনানী-গুলশান, বারিধারা ও খিলক্ষেত।ঢাকার বাইরে ভাইরাসে আক্রান্ত অন্য জেলাগুলো হচ্ছে- মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাইবান্ধা, কক্সবাজার, চুয়াডাঙ্গা, রংপুর, কুমিল্লা ও গাজীপুর।

চীনের উহানে ডিসেম্বরের শেষ করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশে প্রথম ২২ ফেব্রুয়ারি শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু হয়। শুরু থেকেই এই পরীক্ষার একক ও একমাত্র সেন্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আইইইডসিআর। গত সপ্তাহ থেকে ঢাকায় ৯টি ও বিভিন্ন জেলায় ৫টিসহ ১৪টি কেন্দ্রে এই ভাইরাস পরীক্ষা শুরু হয়। চলতি মাসের মধ্যেই সারাদেশে ২৮টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বেশি বেশি পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত রোগী শনাক্ত করে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় সরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত কম হলেও এখানে এটি সংক্রমণের দিক থেকে এখন তৃতীয় স্তরে রয়েছে। কারণ মহামারী রোগের কারণে কোনো এলাকা লকডাউন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলে সেটি তৃতীয় স্তর হিসেবে গণ্য হয়। এখন দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে। করোনা কোন কোন এলাকায় ছড়িয়েছে সেটি জানতে হলে পরীক্ষার হার বাড়াতে হবে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কোভিড-১৯-এ আক্রান্তদের মৃত্যুহার সার্স অথবা মার্স-এর থেকে অনেক কম হলেও নতুন এই ভাইরাসটির গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে এখনও তাদের কাছে বিশেষ তথ্য নেই। চীনে এ ভাইরাসটি স্টেজ-ফোর-এ পৌঁছলেও সেখানকার থেকেও ইতালিতে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। তাই এ ব্যাপারে আগেভাগেই অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে সম্প্রতি যারা বিদেশ থেকে ফিরে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকেননি, এমনকি বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও নিজের উপস্থিতি প্রশাসনকে নিশ্চিত করেননি তাদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর অ্যাকশনে নামছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলা ও প্রস্তুতি নিয়ে এক বৈঠকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হোম কোয়ারেন্টিন না মানা প্রবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সেনাবাহিনী এরইমধ্যে মাঠে নামলেও এবার তার গতি-পরিধি আরও কয়েকগুণ জোরদার করছে। তারা বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে সম্প্রতি দেশে আসা প্রবাসীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছেন। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কেউ হোম কোয়ারেন্টিন না মানলে তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ দিচ্ছেন।

ওদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ফিরে ঢাকায় এক র‌্যাব সদস্যর করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। ওই র‌্যাব সদস্যর শ্বাশুড় বাড়ি টেকনাফের পুরাতন পল্লান পাড়ায়। সেখানে তার সংস্পর্শে আসা লোকজনদের ৭টি বাড়ি ও ৮টি দোকান শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে লকডাউন করা হয়। তাছাড়া, সাতক্ষীরায় জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে ঝাউডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র হোসেন আলী শুক্রবার ভোরে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যাবার পর তার  বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, ওই কলেজছাত্রের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পরক্ষীরার জন্য প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি-না।

এদিকে দেশের অঘোষিত লকডাউন পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্নআয়ের মানুষকে বেঁচে থাকার তাগিদে যাতে দৈনন্দিন খাদ্য সংগ্রহে রাস্তায় নামতে না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা, এ শ্রেণির বিপুলসংখ্যক মানুষের ঘরে খাবার না থাকলে তারা লকডাউন ভেঙে নির্বিচারে রাস্তায় নেমে আসবে। এতে করোনাভাইরাসকে স্টেজ-থ্রিতে আটকে রাখা কঠিন হবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৫০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই