তারিখ : ২৬ মে ২০২০, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় মহা সড়কে চরম বিড়ম্বনায় কর্মস্থলে ফেরা জনসাধারণ

ভালুকায় মহা সড়কে চরম বিড়ম্বনায় কর্মস্থলে ফেরা জনসাধারণ
[ভালুকা ডট কম : ০৩ এপ্রিল]
গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এবং রোববার থেকে (৫এপ্রিল) সব ধরণের কোম্পানি খোলা হয়ে যাবে। বাড়ি থেকে কর্মস্থলে জন সাধারণকে চরম ভোগান্তি ও বিপাকে পড়তে দেখা যায়। তাদেরকে ৬গুণ করে ভাড়া গুনতে হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহা সড়কের ভালুকা এলাকায় কর্মস্থলে ফেরা মানুষের এ দৃশ্য দেখা যায়।

গত ২৫মার্চ থেকে ৫এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সব শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। মিল শ্রমিকরা লম্বা ছুটি পেয়ে মহা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পরও কষ্ট করে ট্রাকে,পিক আপ, লেগুনা দিয়ে স্বপরিবারে বাড়িতে চলে যান। ছুটি কাটানোর পর অনেক মিল শ্রমিকরাই এক দিন হাতে রেখে কর্মস্থলে ফেরার জন্য গন্তব্যে উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাড়ি থেকে বের হয়ে কোনো ক্রমে সিএনজি,অটো রিক্সা দিয়ে জেলা সদরে পৌঁছার পর মহা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মাঝে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পিক-আপ, ট্রাক যোগে ছয়গুণ ভাড়া দিয়ে সামনের দিকে এগুতে থাকেন।

রাস্তায় হয়রানী হওয়া যাত্রীরা জানান, ময়মনসিংহ সদর থেকে হেঁটে বাইপাস পর্যন্ত আসার পর ত্রিশাল পর্যন্ত ট্রাকে একশত টাকা করে ভাড়া নিয়ে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডের অদূরে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে আবার প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে ত্রিশালের সুতিয়া নদীর ব্রিজ পেরিয়ে প্রতিজন একশত টাকা করে ভাড়া দিয়ে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডের কাছে হাই স্কুল মোড়ে নামিয়ে দেয়। আবার প্রায় এক কিলো মিটার হেঁটে খিরু ব্রীজ পেরিয়ে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে থেকে গাজীপুরের মাওনা পর্যন্ত ট্রাক পিক-আপ করে একশত টাকা করে নিচ্ছে।

ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থেকে দেখা যায়,পুলিশের ভয়ে ট্রাক থেকে যাত্রীদেরকে চালকরা ু নামিয়ে দিচ্ছে। আর যাত্রীরা নেমে শিশু বাচ্চা কোলে নিয়ে কেউ কেউ নিজেদের মালামালের ব্যাগ,বস্তা মাথায় নিয়ে প্রচন্ড রোদের মাঝে হেঁটে যাচ্ছেন। শ্রমিকদের প্রশ্ন আমাদেরকে বিজিএমইর পক্ষ থেকে ১০দিনের ছুটি দিয়েছে আর মহান স্বাধীনতা দিবসের একদিনে ছুটিসহ মোট ১১দিনে ছুটি পেয়েছি। দীর্ঘ ছুটি পাওয়ার পর নাড়ির টানে আমরা নিজ বাড়িতে চলে গিয়ে ছিলাম। কিন্তু এ ছুটি কাটিয়ে “খাজনার চেয়ে বাজনাই”বেশি পড়েছে। পরিবারের সদস্য নিয়ে ফেরার পথে ৬গুণেরও বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। আসা যাওয়ায় আমাদের অর্ধেক মাসের বেতন চলে যাবে।

মাথায় ব্যাগের বোঝা নিয়ে ঢাকায় ঝি এর কাজ করেন শরিফা বেগম জানান, আমি কেন্দুয়া থেকে সেই ফজরের নামাজ পড়ে রওনা দিয়েছি এখন দুপুর ১২টা বাজে। এ পর্যন্ত  কয়েক বার গাড়ি পরিবর্তন করেছি তার হিসাব নেই। মালিকের কাছ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ছুটি নিয়ে এসে ছিলাম। বাকি পথ কিভাবে যাবো আল্লাহই ভালো জানেন।

মিল শ্রমিক ফুলপুরের মিজানুর রহমান জানান, আমরা ১১দিনের ছুটি পেয়েছি। এ দিকে সরকার রাস্তায় গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে। লাখ লাখ শ্রমিক কিভাবে কর্মস্থলে ফিরবে কর্তারা কেউ কী একবারও ভেবেছেন কিভাবে এ অসহায় মানুষ গুলো কর্মস্থলে ফিরবেন।

শেরপুরের নকলা থেকে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, আমি গাজীপুরের তিব্বত কোম্পানিতে চাকুরি করি আগামী কাল ছুটি শেষ কত কষ্ট করে সপরিবারে এ পর্যন্ত পৌঁছলাম তার বর্ণনা দিতে পারবো না। আমাদের প্রতি জনে ৬গুণ করে ভাড়া দিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি।

ভরডোবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ (পরিদর্শক) উযায়ের আহম্মেদ আদনান জানান, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ আছে মহা সড়কে ট্রাক-পিক আপে কোনো যাত্রী যাবে না। তাই আমরা যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বেশ কয়েকটি ট্রাক আটক করেছি।  #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৫০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই