তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নান্দাইলের পল্লীতে কৃষকের জমি দখলের পায়তারা

নান্দাইলের পল্লীতে কৃষকের জমি দখলের পায়তারা,উর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
[ভালুকা ডট কম : ২৮ ফেব্রুয়ারী]
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের নিরীহ কৃষক ফিরোজ মিয়ার পুত্র মোস্তফা কামালের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার পায়তারা সহ উক্ত কৃষক পরিবারকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করার এক গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মোঃ আলিম উদ্দিন, তার পুত্র বাবুল মিয়া, সোহেল মিয়া, সুমন মিয়া, মামুন মিয়া, আব্দুস ছোবানের পুত্র মধু মিয়া, মৃত মনির ফকিরের পুত্র রোকন মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, আব্দুল রাশিদ, মৃত আবেদ আলীর পুত্র রেনু মিয়া, জিলু মিয়া, রেনু মিয়ার পুত্র পলাশ, শামসুদ্দিনের পুত্র আজিজুল গংরা কৃষক ফিরোজ মিয়া তথা মোস্তফা কামালের জমি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পায়তারা করে আসছে। শুধু তাই নয় গত আমনের মৌসুমে মোস্তফা কামালের ২১ কাঠা জমির ফসলি ধান প্রকাশ্যে দিবালোকে অস্ত্রের মুখে কেটে নিয়ে যায়। এতে কৃষক ফিরোজ মিয়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তা একাধিকবার সালিশ দরবার করলেও তারা দরবার না মেনে উপুর্যপরি একের পর অত্যচার-নির্যাতন ও নানা ধরনের হুমকী দিয়ে আসছে। এছাড়া তার দখলীয় পুকুরের মাছ নিধন ও হাসঁ-মুরগী ধরে নিয়ে যায় বলে ফিরোজ মিয়ার পুত্র মোস্তফা কামাল জানান। তবে বর্তমানে উক্ত ২১ কাঠা জমি অনাবাদি রয়েছে।

স্থানীয়সূত্র মতে জানা যায়, মোস্তাফা কামালের বাবা কৃষক ফিরোজ মিয়া মৃত তমিজ উদ্দিন ফকিরের পালক পুত্র ছিলেন। তমিজ উদ্দিন ফকির নি:সন্তান থাকায় তারই ভাগ্নে ফিরোজ মিয়াকে পালক পুত্র হিসাবে লালন-পালন করতেন। এ বিষয়ে ফিরোজ মিয়া জানান,তমিজ উদ্দিন ফকির নিঃসন্তান ফিরোজ মিয়াকে কখনও পালক সন্তান ভাবতেন না এবং তাকে সম্পত্তির সকল অংশীদারিত্ব রাখেন।

এ বিষয়ে তমিজ উদ্দিনের আপন চাচাতো ভাই উসমান ফকির, জহুর উদ্দিন ফকির ও আব্দস ছোবাহ ফকির সহ তার ভাইদের পুত্র সন্তানরা আপত্তি জানায় এবং ১৯৯১ সনে তমিজ উদ্দিন মারা গেলে ওয়ারিশানমুলে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণের সহায়তায় গ্রাম্য সালিশ দরবারের সিদ্বান্ত অনুযায়ী ১২ কাঠা সম্পত্তি ওয়ারিশানমূলে দেওয়া হয় এবং তমিজ উদ্দিনের চাচাতো ভাইদের সম্মতিক্রমে ও স্বাক্ষরে বাকী জমিটুকু ফিরোজ মিয়ার নামে লিখে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে একটি অসাধূ চক্র তাদেরকে উস্কানি দিয়ে একের পর এক নির্যাতন ও হয়রানি করে আসছে। বর্তমানে তাদের ভয়ে কৃষক মোস্তফা কামাল ও তার পরিবার আতংকে রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে খূন-জখমের মতো ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে বিবাদী কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা অত্যাচার ও হয়রানির কথা অস্বীকার করে বলেন, মোস্তফা কামালের বাবা ফিরোজ মিয়া কি মূলে জমির দাবী করছেন তা আমাদের জানা নেই। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে জমি সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি ফায়সালার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছি। তবে বিবাদীরা কোন সালিশ দরবার মানতে রাজি না।  এ বিষয়ে নিরীহ কৃষক ফিরোজ মিয়া ও তার পরিবার উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৩৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই