তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২০, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

গৌরীপুরে শিং মাছ চাষে আজিজুলের বিস্ময়কর সাফল্য

গৌরীপুরে শিং মাছ চাষে আজিজুলের বিস্ময়কর সাফল্য
[ভালুকা ডট কম : ২২ জানুয়ারী]
সঠিক সময়ে খাদ্য আর পরিচর্যায় শিং মাছ চাষে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার আজিজুল হক সরকার। এক বিঘা জমিতে ৫ হাজার ৪১৭ কেজি মাছ উৎপাদন করেন। ব্যয়ের তিনগুন লাভ হওয়ায় আজিজুল ফর্মূলাথ এলাকায় এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।এ পদ্ধতি ৬টি গ্রামের ২৯জন মৎস্যচাষীকে দেখালো নতুন পথ।

উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের বিষমপুর গ্রামের মৃত ওয়ারেছ আলীর পুত্র আজিজুল হক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাওহা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন। ‘হতাশ আর বেকারত্বথ অভিশাপ থেকে মুক্তির পথে ‘আজিজুল ফর্মূলাথ মৎস্যচাষে ক্ষতিগ্রস্থ, অনাগ্রহী ও বেকারদের হাতছানি দিয়েছে।

তিনি জানান, একবিঘা (৩৩শতাংশ) জমিতে বন্ধন হ্যাচারী থেকে ১৮হাজার টাকায় দেড় কেজি রেনু পোনা আনেন। উৎপাদিত প্রতিটি পোনা মাছ এক টাকা করে ৫২হাজার পোনা মাছ বিক্রি করেন। জৈষ্ঠ্য মাসের শেষভাগের সময় থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিকসময়ে খাদ্য প্রদান করায় উৎপাদন হয় ১৩৫মন ১৭ কেজি মাছ। যার বিক্রয় মূল্য ২৩লাখ ২হাজার ২২৫টাকা। মাছ চাষে খরচ ৭লাখ ৩৪হাজার ৮৩৫টাকা। আয় হয় ১৬লাখ ১৯হাজার ৩৯০টাকা। এছাড়াও তিনি পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের বাড়ি উপঢৌকন হিসাবে প্রায় ১১৫ কেজি শিংমাছ প্রদান করেন।

তিনি জানান, মাছ চাষে তার ভাগ্যবদল হয়েছে। স্ত্রী বিলকিস আক্তারও মাছ চাষের খাদ্য যোগান ও পরিচর্যায় সহযোগিতা করেন। ৩কন্যার সংসারে তিনি মহাখুশী। বড় মেয়ে শিখা আক্তার গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজে এইচএসসিতে, মেঝো মেয়ে সীমা আক্তার মাওহা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি ও ছোট মেয়ে বিষমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামিয়া আক্তার প্রথম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

এ দিকে আজিজুল হক সরকারের এ সাফল্যের সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে। বড়ইকান্দা গ্রামের সামছুল হুদার পুত্র মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, আজিজুল ভাই যে সাফল্য অর্জন করে তার ফর্মূলা আয়ত্ব করতে এখন তার সঙ্গেই আছি। আমিও ৬০শতাংশ জমিতে এবার শিং চাষ শুরু করেছি। আজিজুল ফর্মূলায় সাফল্য অর্জনের জন্য তার ভাই নজরুল ইসলামও শিং চাষ শুরু করে। তিনি জানান, ২০শতাংশ জমিতে এবছর ১১হাজার টাকা লাভ হয়েছে।

অপরদিকে ‘আজিজুল ফর্মূলাথ জানতে ছুটে এনেছেন সুনামগঞ্জের রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সিলেট মৎস্য আড়ৎতে বড় শিং মাছ দেখে বিস্মৃত হন। তারপর ঠিকানা নিয়ে এখানে মাছ চাষ দেখতে এসেছেন।

কথা হয় ডৌহাখলা ইউনিয়নের মৎস্যচাষী বীর মুক্তিযোদ্ধা রতন সরকারের সঙ্গে। তিনি জানান, আমিও দীর্ঘদিন যাবত শিং চাষ করতে প্রতিটি শিং ৫শ গ্রাম/৬শ গ্রাম শুনে অবাক লেগেছে। তাই দেখতে এলাম। সত্যিই বিস্মৃত হয়েছি।

সোহাগী ইউনিয়ন উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রভাষক মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, এতোবড় শিং মাছ এর আগে কখনও দেখেনি। আজিজুল হক সরকার এলাকায় এখন ‘দৃষ্টান্তথ, সবার জন্য উদাহরণ!#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

লাইফস্টাইল বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৩৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই