তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় লবনের দাম বেশি নেয়ায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

নওগাঁয় লবনের দাম বেশি নেয়ায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা
[ভালুকা ডট কম : ২০ নভেম্বর]
পেঁয়াজের ঝাঁজ কাটতে না কাটতে হঠাৎ করেই নওগাঁর বাজারগুলোতে লবনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শহর থেকে গ্রাম সবখানেই খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলোতে লবন কিনতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।লবন মজুদ রাখা ও বেশি দামে বিক্রি করার অপরাধে পলাশ নামে এক দোকানীকে ভ্রাম্যমানে ১৫ দিনের সাজা প্রদান করা হয়েছে। তার বাড়ি সদর উপজেলার র্কীত্তিপুর গ্রামে।এদিকে, জেলা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুজবে কান না দিতে বাজারগুলোতে মাইকিং করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, জেলার মান্দা উপজেলার জাতবাজারে লবণের কেজি প্রকারভেদে ৫০-৭০ টাকা, সতিহাটে খোলা লবণ প্রতি কেজি ৩০-৫০ টাকা, চৌবাড়িয়া হাটে ৬০-৭০ টাকা, বদলগাছী উপজেলার পারসোমবাড়ী বাজরে প্রকারভেদে ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে গত বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন বাজারে প্রশানর অভিযান পরিচালনা করায় লবনের বাজার ছিল স্থিতিশীল। তবে অধিকাংশ মুদি দোকানগুলোতে লবন পাওয়া যায়নি।

দোকানীরা বলেছেন, গত কয়েকদিন থেকে পরিবহন না চলায় বাজারে লবনের কৃত্রিম সংকট তৈরী হয়েছে। আর এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় বেশি দামে লবন বিক্রি করেছেন।শহরের তাজের মোড় শহীদ নুরনবী পৌর মার্কেটে সন্ধ্যায় দেখা যায়, মুদি দোকানে লবন কিনতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।

মুদি দোকানী জেরিন স্টোরের মালিক জিয়াউর রহমান বলেন, হঠাৎ করেই দুপুর পর দোকানে লবনের ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে যায়। ঘন্টা চারেকের মধ্যে ১২০ টাকা কেজি লবন বিক্রি হয়ে যায়। প্রতিকেজি লবন মোটা ২০ টাকা এবং চিকন ৩০ টাকা কেজি। আগেও একই দামে বিক্রি করা হয়েছিল।

সদর উপজেলার মাদার মোল্লা গ্রামের আফসার উদ্দিন বলেন, লবনের দাম বেড়ে গেছে শুনে বিকেলে বাজারে কিনতে গিয়েছিলাম। দেখি প্রতিকেজি লবন ৪৫-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। যেহেতু শহরে কাজে আসছি তাজের মোড় থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে ২ কেজি লবন কিনেছি।

তিনি ক্ষোভ করে বলেন, আমরা হচ্ছি হুজুকে বাঙ্গালী। গুজবে কান দিয়। যারা একটার পর একটা গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানান। সেই সাথে প্রশাসনের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং। যাতে হঠাৎ করেই দোকানীরা কোন পন্যের দাম বেশি রাখতে না পারে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অব্দুল্লাহ মামুন বলেন, পলাশ র্কীত্তিপুর বাজারে কনফেকশনারী দোকানের একজন কর্মচারী। তার নিজস্ব কোন দোকান নাই। লবনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার গুজবে বাজার দামে ৫ বস্তা লবন কিনেছিলেন। এক বস্তা দোকানে রেখে বিক্রি করেছেন এবং বাঁকী চার বস্তা বাড়িতে মজুদ রেখেছিলেন। গোপনে বিষয়টি জানার পর পলাশকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়ি থেকে চারবস্তা লবন উদ্ধার করা হয়। যেহেতু তিনি লবন ব্যবসায়ী না বা তার দোকানে কখনো লবন বিক্রি হয়নি। এ অপরাধে তাকে ১৫ দিনের সাজা প্রদান করা হয়েছে।

নওগাঁ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: কামরুজ্জামান বলেন, গুজবে কান না দিয়ে লবন, চাল অথবা অন্য যেকোন অত্যাবশ্যকীয় পন্য অতিরিক্ত দামে বিক্রয় মজুত দারী অথবা এ সংক্রান্ত গুজব সৃষ্টির খবর পাওয়া গেলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ০১৭১৭-৬০৯০৫৩ নম্বরে মোবাইল অবহিত করতে বলা হয়েছে।

হঠাৎ করেই লবনের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে জেলার মাইকিং করা হয়। এছাড়া ১১ উপজেলায় ১৩ টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে লবনের দাম বেশি রাখায় ২১ টি মামলা করা হয়। সেই সাথে ২৭ বস্তা লবন উদ্ধার ও বিভিন্ন দোকানীর কাছ থেকে ১লাখ ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১ জনকে ১৫ দিনের সাজা প্রদান করা হয়।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকার বাইরে বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২৮ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই