তারিখ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় আদালত থেকে জমিনে এসে বাদীর নাতির উপর হামলা

ভালুকায় আদালত থেকে জমিনে এসে বাদীর নাতির উপর হামলা,আসামী গ্রেফতার
[ভালুকা ডট কম : ০৯ আগস্ট]
ভালুকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দিন দুপুরে আয়েশা খাতুন নামে এক নারীকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাথার মগজ বের করে আহত করার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আসামীরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে এসে মামলার বাদীর নাতি কলেজ পড়ুয়া ছাত্র আরিফুল ইসলাম(১৮)এর উপরও হামলা করে। এ সময় গ্রামবাসীরা হামলাকারী আসাদুজ্জামানকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে উপজেলার বরাইদ গ্রামে। আসাদুজ্জামানের কোদালের কোপে আহত আয়েশা খাতুন ২০দিন যাবত ঢাকায় একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানাযায়, উপজেলার বরাইদ গ্রামের আলী আকবরের ছেলে ওমর ফারুকের সাথে স্থানীয়  আসাদুজ্জমান গংদের  বড় লৌহাবৈ মৌজার ২৮শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ওমর ফারুক ২নং মেদুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার দিন (১৯জুলাই) স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে শালিস বসান। ওই সালিশে ওমর ফারুকের জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম একজন জমি মাপাার আমীন দিয়ে পরিমাপ করে গণ্যমান্যদের সামনে ওমর ফারুকের ২৮শতাংশ জমির সীমানা চিহ্নিত করে দেন।

সালিশ শেষে ওমর ফারুক চিহ্নিত সীমানায় খাঁটি পূঁতার সময় প্রতিপক্ষ আসাদুজ্জামান ওরফে জামান,জিহাদ, আবু রাশেদ, রাশিদা খাতুন, জেসমিন আক্তার অতর্কিত ওমর ফারুক,তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তার, ছোট বোন সুফলা আক্তারের উপর হামলা করে। স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কামপ্লেক্স পরে আশঙ্কা জনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। আহতদের অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়ার পথে আহতদের অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিক ভাবে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে আহত আয়েশা খাতুন ঢাকায় একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

এ ঘটনায় ফারুকের পিতা আলী আকবর বাদী হয়ে ৫জনকে আসামী করে ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন (যার নং ৩৪ তারিখ ১৯.০৮.২৩০১৯ইং)। আসামী প্রায় ১২দিন পালিয়ে থাকার পর চলতি মাসে ১তারিখে হাইকোর্ট থেকে পুরুষদেরকে ৪সপ্তাহের অর্ন্তবর্তী কালীন এবং নারীদেরকে স্থায়ী জামিন দেন। আসামীরা জামিনে এসেই মোবাইল ফোনে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদীর ছেলে ও নাতিকে কয়েক দিন যাবত হুমকী দিয়ে আসছে। মামলা না তুলে নিলে প্রাণ নাশের হুমকী দেয়। ঘটনার রাতে আরিফুল ইসলাম স্থানীয় শহীদ শামছুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় আসাদুজ্জামান সহ  আরো ২/৩জন তার গলায় ছুরা ধরে পথ রোধ করে আরিফুল ইসলাম। এতে প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় আরিফুল ইসলামের বাবা  ছেলের খোঁজ নেয়ার জন্য মোবাইলে কল দিলে আসাদুজ্জামান ওই ফোন রিসিভ করে মামলা উঠিয়ে না নিলে  তার ছেলেকে হত্যা করবে। তখন ফরুক ঘটনাটি স্থানীয় বরাইদ বাজারে জানালে লোকজন এসে তার ছেলেকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাত তিন আসামী পালিয়ে যায়। আসাদুজ্জামান মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায় আত্নগোপন করে। এ ঘটনটি ভালুকা মডেল থানায় অবগত করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক উপস্থিত হয়ে আসাদুজ্জামানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওমর ফারুক বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা করেন নং-১৫ (তারিখ-০৭.০৮.২০১৯ইং)। এ মামলায় আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান গ্রেফতার হওয়ার পর এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করে পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আরিফুল ইসলাম জানান, আমি ঘটনা সময় মাদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার পাশে দাড়িয়ে ছিলাম এ সময় আসাদুজ্জামান ও তার সাথে অজ্ঞাত নামা ২/৩জন এসে আমার পিছন থেকে গলায় ছুরি ধরে এবং মারপিট শুরু করে। নগদ সাত হাজার,৫শত টাকা ও পনর হাজার টাকা মূল্যের একটি অপ্পো মোবাইল সেট ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

মামলার বাদী ওমর ফারুক জানান, হাইকোর্ট থেকে আসামীরা অর্ন্তবর্তী কালীন জামিন নিয়ে এসে আমি,আমার ছেলে এবং আমার পরিবারের লোকজন আসাদুজ্জামানের হুমকীর কারণে নিরপত্তা হীনতায় ভোগছি। সে যদি আবারো জামিনে আসে তার কারণে আমার পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে। তাঁর ভয়ে পালিয়ে থাকতে হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা  এস,আই মোজাম্মেল হক জানান, আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করার জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। দুরন্ধর প্রকৃতির  হওয়ায় অভিযানে গেলে সে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতো। গ্রামবাসীর সহযোগীতায় তাকে আটক করা হয়েছে। তার গ্রেফতারে এলাকাবাসী আনন্দিত।

ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, বিভিন্ন জায়গায় অভিযানের পর গ্রামবাসীর সহযোগীতায় আসাদুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে।ফারুকের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামী গ্রেফতার করা পুলিশের স্বাভাবিক কাজ।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই