তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

খরায় পুড়ছে নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল

খরায় পুড়ছে নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল,আমন ধান চাষ নিয়ে শংকিত কৃষকরা
[ভালুকা ডট কম : ২০ জুলাই]
তীব্র খরায় পুড়ছে বরেন্দ্র জেলা নওগাঁ। আষাঢ় মাসে সামান্য বৃষ্টি হলেও শ্রাবনে এখন পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। তবে কৃষকরা অল্প সংখ্যক জমিতে আউস ধান রোপন করলেও পানির জন্য ঐ জমিগুলো শুকিয়ে মাটি ফেটে গেছে। এখন আমন ধান রোপনের মৌসুম; কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় জেলার বরেন্দ্র অঞ্চলের জমিগুলো পড়ে রয়েছে। কৃষকরা আমন ধান লাগানোর জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তবে বৃষ্টি না হলে আমন ধান রোপন করতে পারবে কি না এই দু:চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

উত্তরের বরেন্দ্র জেলা নওগাঁ। এ জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, ধামইরহাট ও মহাদেবপুর বরেন্দ্র উপজেলাসহ পুরো জেলাতেই আকাশের বৃষ্টির অভাবে আমন ধান রোপন করতে পারছেন না জেলার কৃষকরা। মূলত আমন ধান আকাশের বৃষ্টির উপরই নির্ভরশীল। তাই শ্রাবন মাস শুরু হলেও কৃষকরা বৃষ্টির আশায় প্রহর গুনছে; তবে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বৃষ্টি হয়নি। ফলে রোপা আমনের সময়কাল শুরু হলেও কোন কাজে আসছে না তাদের। বর্ষার শুরুতেই একপশলা বৃষ্টি হলেও তা আমন চাষের জন্য কোন কাজে লাগেনি। বৃষ্টির অভাবে মাটি ফেটে গেছে। মাঠে গরু-ছাগল ঘাস খাচ্ছে। যদি কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হয় তাহলে কৃষকরা কি করবেন এই চিন্তায় তারা। তাই এ বরেন্দ্র জেলার কৃষকের চোখ এখন শুধু আকাশের দিকে। তাই চলতি মৌসুমে আমন চাষ নিয়ে শংকায় রয়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার গবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আকরাম হোসেন বলেন, বহুদিন থেকে আকাশের বৃষ্টি নাই; তাই বাধ্য হয়েই শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পানি সেচ দিয়ে জমি তৈরি না করলে আমন ধান রোপনের সময় পার হয়ে যাচ্ছে আর দেরি করে ধান রোপন করলে ধানের ফলনও ভালো হবে না। তাই আমিসহ এই এলাকার সকল কৃষকরা গভীর-অগভীর নলকুপের পানি দিয়ে ধান রোপনের চেষ্টা করছেন। এতে করে তাদের বিঘা প্রতি ৪শত থেকে ৭শত টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

জেলার পোরশা উপজেলার নিছিন্তপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন এমনিতেই আমাদের এই এলাকা ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল। ভরা বর্ষা মৌসুমেও ধান চাষের জন্য পানি পাওয়া যায় না তার উপর আবার প্রচন্ড খরা ও বৈরী আবহাওয়া। তাই আমরা এই জনপদের কৃষকরা আকাশের বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে হাল চাষ করতে না পেরে দুঃচিন্তায় তারা। কৃষকরা বিঘার পর বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করতে পারছে না। মাটি ফেটে গেছে। আমন ধান সময় মতো না লাগাতে পারলে ফলন ভালো হবে না বলে আমরা দারুন ভাবে শংকিত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সমস্যা একটি বড় সমস্যা। গত বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টি অনেক কম। এতে করে কৃষকরা আমন ধান রোপন করতে একটু বিলম্ব হবে। তবে আউস ধান যেসব মাঠে লাগানো রয়েছে কৃষকরা বিকল্প হিসেবে গভীর-অগভীর নলকুপ দিয়ে পানি সেচ দিয়ে তা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এতে করে খরচ অনেকটা বেড়ে যাবে। তিনি আরো বলেন মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত কৃষকদের এই সমস্যায় করনীয় সকল প্রকার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।#

 






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

পরিবেশ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫২৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই